1. news@patiyaralo.com : patiyar alo : patiyar alo
  2. admin@www.patiyaralo.com : news :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

পটিয়ার কীর্তিমানদের স্মরণ করলো প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

পটিয়ার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে পটিয়ার দুই কীর্তিমান বীরকন্যা প্রীতিলতা ও মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ এর কর্ম ও কীর্তিগাথা নিয়ে আজ শনিবার সকাল ১১টায় “কীর্তিমান স্মরণে” অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

আয়োজনের মধ্যে ছিল রচনা প্রতিযোগিতা, তাঁদের কর্ম ও জীবনী নিয়ে আলোচনা, পুরষ্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত কীর্তিমান স্মরণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি।

একাডেমির নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিত দাশ এর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সদস্য শিমুল মল্লিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ ।

তিনি বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ও মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ক্ষণজন্মা কীর্তিমান। তাঁদের অবদান দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। পটিয়ার মেয়ে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে আন্তবিসর্জন দিয়ে প্রমান করেছেন দেশপ্রেমের উর্ধে কিছু নাই।

দেশের মুক্তি সংগ্রাম ও দেশ গড়ার কাজে নারী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকা চলবেনা। ঠিক তেমনি পটিয়ারই আরেক কীর্তিমান পুরুষ বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত পুঁথি গবেষক ও সংগ্রাহক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। তাঁর হাত ধরেই বাংলার পুঁথি সাহিত্য নবজীবন লাভ করে। এই সাহিত্যসাধক তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন দেশবিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুঁথি সংগ্রহ করার জন্য।

তাদের কর্ম ও কীর্তিগাথা নিয়ে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি এই আয়োজন করে প্রমান করে কীর্তিমানেরা সব সময় স্মরণীয় ও বরণীয়। দুই কীর্তিমানকে নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যকার ও গবেষক আহম্মেদ কবির ও বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাষ্ট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পংকজ চক্রবর্ত্তী।

নাট্যকার ও গবেষক আহম্মেদ কবির বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আড়াই সহস্রাধিক পুঁথির পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন এবং ছয় শতাধিক গবেষণামূলক মেীলিক প্রবন্ধ রচনা করেন। সাহিত্যকর্ম ও গবেষনায় তাঁর এ অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য চট্টগ্রামের সাহিত্য বোদ্ধাগণ তাঁকে “সাহিত্য বিশারদ” ও নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজ তাঁকে “সাহিত্য সাগর” উপাধিতে ভূষিত করেন। পংকজ চক্রবত্তী বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ প্রীতিলতা ছাত্রাবস্থাতেই বিপ্লবী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।

তিনিই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম মহিলা শহীদ হিসেবে খ্যাত। পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমন করে ফেরার পথে শত্রুদের গুলিতে আহত হন। কিন্তু তিনি শত্রুদের হাতে আত্মসমর্পন না করে পটাশিয়াম সায়নাইড খেয়ে নিজেকে আত্মহুতি দেন। একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি বলেন, প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি শুরু থেকেই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পটিয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য সবার মাঝে তুলে ধরার জন্য কাজ করছে।

আজকের কীর্তিমান স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীরা পটিয়ার এই দুই কিংবদন্তি সম্পর্কে জানতে পারবে। তাঁদের কর্ম ও জীবন সম্পর্কে জানানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছে রচনা প্রতিযোগিতা।

তাঁদের কীর্তিগাঁধা নিয়ে আরো আলোচনা করেন, সৃজনশীল সাহিত্য গেীষ্ঠি মালঞ্চের সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজিত মিত্র, বাংলাদেশ যাত্রা শিল্পী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও নাট্যকার মিলন কান্তি দে, লেখক ও গবেষক এসএমএকে জাহাঙ্গীর, পটিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম রানা, সাহিত্যবিশারদ দৌহিত্র জাহেদ উল পাশা আকাশ, রাজনীতিবিদ প্রবোধ রায় চন্দন, আবৃত্তি শিল্পী গেীতম চেীধুরী, চিত্রশিল্পী হামেদ হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সোহেল উদ্দিন, কবি হামীম রায়হান, একাডেমির সিনিয়র সদস্য শিবু মল্লিক, অপু দাশ প্রমুখ।

পরে অতিথিরা রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৮ জন প্রতিযোগীকে পুরষ্কার প্রদান করেন। সেই সাথে অংশগ্রহণকারী সবাইকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত