1. news@patiyaralo.com : patiyar alo : patiyar alo
  2. admin@www.patiyaralo.com : news :
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শামসুল হুদা ও বদিউল আলম মজুমদারের সমালোচনায় সিইসি সংসদে নির্বাচন কমিশন বিল পাস বোয়ালখালী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আটককৃত আসামী ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ বোয়ালখালী প্রেসক্লাবকতৃক সংবর্ধিত হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৩ মানবতার স্বাস্থ্য সেবক বিশ্ববাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট সিনিয়র ছাত্রকে থাপ্পড়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বহিষ্কার স্বর্ণ এবং এলুমিনিয়ামের তৈরি বিশ্বের সর্ববৃহৎ কুরআনের প্রদর্শনী দুবাইতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে শাবি শিক্ষার্থীদের শপথ মালয়েশিয়ায় পুলিশকে ঘুষ সাধায় বাংলাদেশিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা টোঙ্গার আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ছিল পরমাণু বোমা থেকে কয়েকশ’ গুন শক্তিশালী

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুরা প্রথম শ্রেণিতেই গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা লাভ করে

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা প্রথম শ্রেণিতেই গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা লাভ করে। দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকান শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই পছন্দ, সম্মতি এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার মতো গণতান্ত্রিক নীতিগুলো মেনে চলতে শিখে।

এ নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত শেয়ার আমেরিকার একটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলে হয়ঃ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যমতে পৌঁছায় যে তারা নিচের বিষয়গুলো মেনে চলবে, যেমন:

-অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় থাকবে।

-নিজের মতামত দেওয়ার জন্য হাত তুলবে এবং অন্যের বলা শেষে নিজের কথা বলবে।

-বাড়ির কাজ নিয়মিত করবে।

তারা কখনো কখনো তাদের শ্রেণির জন্য ভোটের মাধ্যমে ক্লাসরুম নেতা নির্বাচন করে। নির্বাচিত নেতা আনন্দের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করে, যেমন গল্পের বই পড়ার ক্লাসের জন্য বই বাছাই করা কিংবা বিরতির সময় সবাই মিলে কোন ধরনের খেলা খেলবে সেটা নির্বাচন করে।

এরপর আমেরিকান শিক্ষার্থীরা যখন হাইস্কুল বা মাধ্যমিক স্কুলে যায় তখন তারা স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরো বেশি গণতন্ত্র নিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ পায়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর গণতান্ত্রিক সরকারের আদলে বিভিন্ন পদের জন্য (প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ট্রেজারার ইত্যাদি) প্রচারণা চালায় এবং নির্বাচনে অংশ নেয়।

প্রার্থীরা সাধারণত স্কুল অ্যাসেম্বিলিতে তাদের সপক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে বক্তৃতা করে। প্রচারাভিযানের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নত করা থেকে শুরু করে স্কুলের মাস্কট পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত থাকে।

নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীরা নতুন শিক্ষার্থী সরকার গঠন করে। ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব তাদের উপর ন্যস্ত হয়, এমনকি যারা তাদেরকে ভোট দেয়নি তাদের স্বার্থও দেখার দায়িত্ব নতুন নির্বাচিতদের। নবনির্বাচিতরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করে ক্যাম্পাসের জীবন উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের সাথে অ্যাডভোকেসি করে।

জেনা কাম্পস্টন কেনটাকির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই সময়ে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি যদি স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তাহলে স্কুলের জন্য একটি নতুন খেলার মাঠ তৈরি করবেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে ও টিমওয়ার্কের কারণে স্কুল নতুন খেলার মাঠের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার আমেরিকান ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছিল।

জেনা এভাবে তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এ বিষয়ে ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জেনা ব্যাখ্যা করে বলেছে, “আমার বোন এখন সেখানে পড়ে। আমি চেয়েছিলাম আমি চলে আসার পরও তার কাছে আমার করে দেওয়া কিছু থাকুক এবং আমি চাই সবাই এই মাঠে খেলা উপভোগ করুন।”

শিক্ষার্থীদের সরকারের নেওয়া কার্যক্রমের আরো কয়েকটি উদাহরণ:

-ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০১৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী মেয়রকে রাস্তায় নতুন বাতি বসানো এবং পায়ে হাঁটার ফুটপাত তৈরিতে রাজী করিয়েছিল যাতে করে তারা নিরাপদে বাড়ি থেকে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে।

-অ্যারিজোনায় একটি স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রতিবছর অভাবী পরিবারগুলোকে খাবার, বই ও গেমের ঝুঁড়ি উপহার হিসেবে পাঠায়। ২০২১ সালের থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষ্যে ছুটির দিনগুলোতে তারা ৩৮ বাক্স খাবার এবং ৩ হাজার আমেরিকান ডলারেরও বেশি খরচ করে তারা কার্ড উপহার দিয়েছিল।

-ফ্লোরিডাতে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ১৫ বছর বয়সী মাহোরো আমানি ২০২১ সালে স্কুলের উপর চাপ তৈরি করেছিল যাতে করে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের টয়লেটগুলোতে বিনামূল্যে মাসিক/ঋতুস্রাব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিলগুলো ক্যাম্পাসে এবং তাদের কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। তারা তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করেছে এবং এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। তারা নতুন নীতিমালা গ্রহণ করতে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে স্থানীয় সরকারকে প্রভাবিত করেছে। এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শেখে যা তাদেরকে তাদের স্নাতক শিক্ষাজীবন শেষে তাদের কর্মজীবনে গাইড করে।

এসব উদাহরণ দিয়ে শেয়ার আমেরিকার প্রতিবেদনে সবার শেষে বলা হয় “যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র শ্রেণিকক্ষ থেকেই শুরু হয়”।

উল্লেখ্য, শেয়ার আমেরিকা ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য জানানোর একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট আমেরিকান জনগণ, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও বিশ্বব্যাপী আমেরিকার বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এখানে প্রকাশিত তথ্য সকলের জন্য উম্মুক্ত এবং যে কেউ বিনামূল্যে এই তথ্য পেতে পারেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর সম্মানে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার আমেরিকা ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণ চালু করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত